গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই সকালে সোহাগ মিয়া জুলহাস নিহত তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তারের কাছে বাসার চাবি রেখে জানান, তানিয়া গার্মেন্টসে কাজে গেছেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে নাছিমা আক্তার গার্মেন্টসে গিয়ে জানতে পারেন, তানিয়া সেদিন কর্মস্থলে যাননি।
পরে বাসায় গিয়ে দরজা খুলে মশারির ভেতর তানিয়ার নিথর দেহ দেখতে পান তিনি। তার নাক-মুখে রক্তের দাগ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের পর পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তানিয়া ও সোহাগ। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ ও অভাব-অনটন নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তদন্তে সোহাগের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগও উঠে আসে।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ দাবি করেছেন, সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি তানিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘরে তালা লাগিয়ে তানিয়ার নাকের স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেন এবং বাসার চাবি তার খালার কাছে রেখে মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যান।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।