সাভারের কলমা এলাকায় নিজের আড়াই বছরের শিশু সন্তানকে নির্যাতনের অভিযোগে সুমি আক্তার নামে এক মাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে অস্থায়ীভাবে দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ শুনানি শেষে বিচারক শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া এ আদেশ দেন। আদালতে শিশুটির ওপর নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ উপস্থাপন করা হলে বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্ত মাকে মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আড়াই বছরের শিশু মেহেরিমা খান তাইয়েবার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তার মা সুমি আক্তার। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় লন্ডনপ্রবাসী বাবার। পরে বাসার দেয়াল ঘড়িতে গোপনে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। কয়েক মাসের ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণের পর শিশুটির দাদা ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি গ্রহণ করে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ গত মে মাসে সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে শিশুটি মায়ের সঙ্গেই কারাগারে ছিল।
শিশুটির দাদি পারুল বেগম অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়ার বিষয় প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই শিশুটির ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়ে। এমনকি শিশুটিকে হত্যার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, গোপনে ধারণ করা ভিডিওতে শিশুটিকে মারধর, হাত বেঁধে জোর করে খাবার খাওয়ানো এবং এতে শিশুটির মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এসব ফুটেজ লন্ডন থেকে শিশুটির বাবা পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে বলেন।
দুপুরে মা ও শিশুকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানির জন্য মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ পাঠানো হয়। আদালতে বিচারক শিশুটিকে দাদির কোলে নিতে বললে শিশুটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মায়ের কাছ থেকে দাদির কাছে চলে যায়। পরে আদালত শিশুটিকে সাময়িকভাবে দাদার জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।
শুনানির সময় সুমি আক্তার আদালতকে বলেন, তাকে ছাড়া সন্তান থাকতে পারবে না। অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি আদালতের কাছে ক্ষমাও চান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, শিশুটির ওজন কম হওয়ায় তাকে খাওয়ানোর সময় কিছুটা শাসন করা হয়েছিল। তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত নারীর একাধিক বিয়ে ও পারিবারিক অশান্তির ইতিহাস রয়েছে।